
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি-
মুন্সীগঞ্জের আদালতের বিচারাধীনে থাকা এক মাদক মামলায় প্রবেশনে মুক্তি পাওয়ায় মানবিক সেবার অংশ হিসেবে সদর উপজেলার হোগলাকান্দি হাফিজিয়া কেরামতিয়া মহিলা মাদ্রাসায় ৫ টি বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান) ও ৫ টি বেডশিট দান করলেন আসামিরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খাস কামরা হতে মাদ্রাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেনে কাছে বৈদ্যুতিক পাখা ও বেডশীট তুলে দেন আদালতের বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গাজী দেলোয়ার হোসেন।
এর আগে গেল বুধবার একটি মাদক মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে মানব সেবা করার সুযোগ চান। এ সময় আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম ওই আসামিদের মানব সেবা কিভাবে করবেন জানতে চাইলে আসামিরা বলেন, তারা সমাজ সেবায় অংশ গ্রহণ করতে চান। এর অংশ হিসেবে আসামিরা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেওয়ার জন্য ৫ টি ফ্যান ও পাঁচটি বেডশীট আদালতে পৌঁছে দেন। আসামিদের এমন মানবিক চিন্তার ওপর ভিত্তি করে বিচারক তাদের প্রবেশনে মুক্তি দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মোঃ আবু হানিফ জানান, প্রবেশন বলতে কোন অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তি স্থগিত রেখে, কারারুদ্ধ না রেখে কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ না করে সমাজের মানুষের সাথে খাপ খাইয়ে চলার সুযোগ প্রদান করাকে বোঝায়। তাই আসামিরা আদালতে বিচারকের কাছে মাদ্রাসার জন্য পাঁচটি বৈদ্যুতিক পাখা ও পাঁচটি বেড সিট দেওয়ার কথা জানালে মানব সেবার অংশ হিসেবে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম স্যার তাদের প্রবেশনে মুক্তি দেন।
আসামিদের দেওয়া ওই ফ্যান ও বেডশীট আমাদের সিজেএম স্যারের উপস্থিতিতে একটি মাদ্রাসায় সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও জেলা আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্য অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ জানান, মুন্সীগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের মাধ্যমে আজ আমাদের মাদ্রাসা জন্য পাঁচটি বৈদ্যুতিক পাখা ও পাঁচটি বেডশীট উপহার পেয়েছি। স্যারের এমন মহৎ কাজের জন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থার লক্ষ্যে স্যারের এমন মহৎ কাজের জন্য অনেক অনেক সাধুবাদ জানাই।